সবারজন্য ডটকম

বুধবার, 25 নভে 2020
বন্দী না মুক্ত
  মোঃ মনিরুল ইসলাম, ৫ ফেব্রু ২০১২
 
আজ বহুদিন পর
পেলাম অবসর,
 
ভাবিলাম আমি মুক্ত।
কিন্তু একি! দেখি
মনে হয় আরো বেশী
ঝামেলা হল যুক্ত।
 
ছিলাম প্রবাসে,
ছকে বাঁধা সব
খাওয়া, শোয়া, কাজকর্ম,
 
ভাবতাম তখন
বন্দী আমি,
এর অবসান চাই, মুক্তি চাই,
 
আজ মুক্ত হয়ে
বুঝছি তাহার মর্ম।
 
ত্যাগী
মোঃ মনিরুল ইসলাম, ৪ ফেব্রু ২০১২
তুমি ত্যাগী
তুমি ভোগী নও।
 
দৃশ্যত তোমায় ব্যর্থতা মনে হলেও,
বস্তুত তুমি স্বার্থক ।
 
সমাজের গুটি কয়েক লোক
তোমাকে ভৎস করলেও
তুমি বিচলিত হইও না।
কারন তুমি বরেণ্য শ্রেণীর অনুকরণীয়।
 
তোমার ভালবাসা, আলোচনা,
প্রকাশ্যে যত
গোপনে তারও বেশী,
কারন তোমার ত্যাগে বিশ্বাস।
 
ভোগের কারনে কেন?
হবে তুমি অবিশ্বাসী।
 
পড়া লেখা
——–মোঃ মনিরুল ইসলাম
 
পড়া লেখা আমাদের জীবনের সম্পদ
পড়া লেখা খুঁজে দেয় মান সম্মানের পথ।
পড়া লেখা ছাড়া নাইকো কোন দাম,
জ্ঞান, জ্ঞানী লোক হলে পায় সে প্রণাম।

জজ ব্যারিস্টার হয় কেউ লেখা পড়া করে,
সারা বিশ্বে হয় পরিচয় পড়া লেখার জোরে।
 
যদি কেউ হয় ভাল ডাক্তার
নাম শুনে তার সকলে করে সুনাম।
 
তাই বলি তোমরা সবাই পড়া লেখা কর,
জীবনটা সুন্দর ও ভাল করে গড়।


 

প্রকৃত মুসলমান

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ্‌র যিনি আমাদেরকে ইসলামের পথ প্রদর্শন করেছেন। সালাত ও সালাম-ঈমান ও ইসলাম বাস্তবায়নকারীদের মধ্যে সর্বোত্তম (মহানবী সঃ) এর প্রতি।
বর্তমান যুগে ইসলামের দাবিদারের সংখ্যা অগণিত। যারা ইসলামের অনুশাসন মেনে চলে না, উহারা শিক্ষার অনুসরণ করেনা, হারামকে হারাম মনে করেনা, ইসলামের নির্ধারিত সীমা রক্ষা করেনা, এরাই নিজেদেরকে মুসলমান হিসেবে পরিচয় দান করে। শুধু এতটুকুই নয় বরং যারা ইয়াহুদী ও খৃস্টানদের চেয়েও মুসলমানদের জন্য ভয়াবহ ও মারাত্মক শত্রু তারাও নিজেদেরকে মুসলমান বলে দাবী করে। ইসলামের দাবীদার হলেই তাকে যেমন মুসলমান বলা যাবেনা এমনিভাবে মুসলিম নামধারী ব্যক্তিকে তাহার আমল দ্বারা সুস্পষ্ট প্রমাণ পেশ করার পূর্বে সত্যিকার মুসলিম হিসেবে গণ্য করা যেতে পারে না। ইসলাম শুধুমাত্র কাল্পনিক অভিলাষ বা দাবী কিংবা মৌখিক স্বীকৃতির নাম নয়।
আল্লাহ্‌ তায়ালা বলেনঃ
ومن النس من يقول امنا بالله وباليوم الاخروماهم بمؤمنين
يخادعون الله والذين امنوا ومايخدعون الاانفسهم ومايشعرون
অর্থঃ এমন কিছু লোক আছে যারা বলে আমরা আল্লাহ্‌ ও আখেরাতের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করলাম, প্রকৃত পক্ষে তারা মুমিন নয়। এরা আল্লাহ্‌ ও মুমিনদের সাথে প্রতারনা করছে। আসলে তারা নিজেদের সাথেই প্রতারনা করছে, কিন্তু তারা তা অনুভব করে না (সূরা বাকারা, আয়াত-৮,৯)।
আমাদের মধ্যে অসংখ্য মানুষ ইসলাম ও ঈমানের দাবীতে সোচ্চার, কিন্তু যে দাবীর সাথে কর্মের কোন সম্পর্ক নেই তার কোনই মূল্য হতে পারেনা।
বলুন ঐ দাবীর কি মূল্য আছে ভাই,
যার সাথে কর্মের কোন সংযোগ নাই।
আমরা কত মুসলমান দেখছি, বারবার তাদের মুখে লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু এই কালেমা ধ্বনিত হচ্ছে। কিন্তু আসুন তাদের প্রত্যেকের ব্যক্তি, পরিবার ও সংশ্লিষ্ট সমাজে যে সব অন্যায় অপরাধ ও ফেতনা ফাসাদের উপকরণ রয়েছে সেদিকে লক্ষ্য করুন। তদুপরি তাদের কথা ও কাজের প্রতি নজর করুন। অতঃপর তাদের আশা আকংখা চিন্তা চেতনার প্রতি দৃষ্টিপাত করুন অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এসব বিষয়ে তাদের অবস্থা "লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু” এই কালেমার মর্ম বিরোধী দেখতে পাবেন। অবস্থা এমনই যে অনেকে মনে করেন এটা এমন একটা কালেমা যা মুখে উচ্চারণ করাই যথেষ্ট। যার কারণে এই বিপ্লবী কালেমা একটি শীতল অর্থহীন কালেমায় পরিণত হয়েছে। এমতাবস্থায় তাদের ঈমান, আল্লাহ্‌র সাথে তাদের সম্পর্ক উত্তাপহীন ও শীতল দেখতে পেলে এতে আশ্চর্য হবার কিছু নেই। ইসলাম হচ্ছে সুউচ্চ সুরম্য অট্টালিকার ন্যায়, যার রয়েছে ভীত, মুল ও শাখা প্রশাখা। এ সবের উপরেই তা প্রতিষ্ঠিত। যে সব ভিত্তির উপরে তা প্রতিষ্ঠিত সেগুলোর মধ্যে ইসলামের পঞ্চ স্তম্ভ সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ যা ছোট বড় সকলেরই জানা। সংক্ষেপে ইসলামের মূল হচ্ছে- উলুহিয়্যাত, রুবুবিয়্যাত, আসমা ও সেফাতের ক্ষেত্রে তথা আল্লাহ্‌র জন্য নির্ধারিত তাওহীদের সকল সঠিক অর্থের প্রতি আস্থা স্থাপন।
জীবনের সকল ক্ষেত্রে আল্লাহ্‌র প্রতি পরিপূর্ণ আনুগত্য ও আত্মসমর্পণের নামও ইসলাম। শরীয়ত নির্ধারিত সীমারেখার গণ্ডি বহির্ভূত কোন স্বাধীনতারই ইসলাম স্বীকৃতি দেয় না। তার পোশাক-পরিচ্ছদ, কথাবার্তা, ক্রয়-বিক্রয়, আগ্মন-প্রত্যাগমন এক কথায় কোন ব্যপারেই শরয়ী সীমা লঙ্ঘন করার সুযোগ নেই। এমনিভাবে ইসলাম হচ্ছে আল্লাহ্‌র প্রতি পরিপূর্ণ আনুগত্য, নির্ভরশীলতা, তার ফয়সালার উপরে সন্তুষ্টি এবং সুখে-দুঃখে, আনন্দে-বিষাদে তার শরণাপন্ন হওয়া।
সত্যিকার মুসলমানকে আপনি সঠিক সময়ে জামাতের সাথে যাবতীয় শর্ত, রুকন, ওয়াজিব, সুন্নাতসহ বিনয়, ভীতি ও একাগ্রতার সাথে সালাত কায়েমকারী হিসেবে দেখতে পাবেন। কোনরূপ বিরক্তি বা অলসতা সেখানে অনুপ্সথিত। আরও দেখতে পাবেন মুক্ত উদারতামনে সন্তুষ্টচিত্তে সে যাকাত আদায় করছে। বিরক্তি বা কস্টানুভুতির ভিত্তিতে নয় বরং সেচ্ছায় সানন্দে আগ্রহভরে সে সিয়াম পালন করছে। হালাল মাল দ্বারা সেচ্ছায় হজব্রত পালনকারী হিসেবে আপনি তাকে দেখতে পাবেন।
এক কথায় মুসলিম সেই, যে কোনরূপ যবর দস্তির ভিত্তিতে নয় বরং সেচ্ছায় খুশী মনে ছোট বড় সব ব্যাপারে আল্লাহ্‌ ও তার রাসুলের সার্বক্ষণিক আনুগত্যশীল।
আপনি তাকে সুন্নাত পালনের প্রতি সর্বদা আগ্রহী দেখতে পাবেন, যেমন সে ফরয পালনে তৎপর। কেননা সুন্নাতের প্রতি অবহেলা ফরযের প্রতি অবহেলার দিকে ধাবিত করে। অপরদিকে কবীরা গুনাহ থেকে সে যেমন পলায়নপর হয় তেমনিভাবে গুনাহ থেকে সে দূরে থাকে। কারণ হারামের প্রতি অবজ্ঞা এবং ছগীরা গুনাহ কবিরা গুনাহর দিকে ধাবিত করে।
প্রকৃত মুসলমান একথা বলেন যে, দাড়ি রাখা সুন্নাত কিন্তু তা তরক করা বৈধ, নারীর প্রতি কুদৃষ্টি ছগীরা গুনাহ, এতে কোন ক্ষতি নাই। পায়ের গীরার নীচে কাপড় ঝুলিয়ে দেয়া সাধারণ ব্যাপার, এতে কোন দোষ নেই। অমুক কাজটি মুস্তাহাব তরক করায় ক্ষতি নাই। এরূপ কথা যে বলে সে মূলত ইসলামের সুরম্য অট্টালিকার একটা একটা পাথর খুলে ফেলে তা ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে দেয়। এমন ব্যক্তি উচু স্তর থেকে ধাপে ধাপে নীচে নামতে থাকে, অবশেষে নিম্নস্তরে নেমে যায়। এমন কথা যে বলে, সে ব্যক্তি ইসলামের সঠিক পথ থেকে পর্যায়ক্রমে দূরে সরতে থাকে, এমনকি এ কারণে ইসলাম থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে পারে।
দ্বীনের ক্ষেত্রে মুসলমানদের পতন, দুরাবস্থা ও বিপর্যয়ের মূল কারন হচ্ছে আল্লাহ্‌র নিকট থেকে দূরে সরে যাওয়া এবং দ্বীনের ব্যাপারে অবজ্ঞা ও অবহেলা। অনেকেই এ ধারনা পোষণ করে যে, ইসলামের কিছু মৌলিক বিষয় পালন করা, যেমন সালাত আদায় করা এবং কিছু ওয়াজিব পালন করলেই বিরাট কল্যাণ লাভ সম্ভব। এতেই তারা ইসলামের আওতাভুক্ত হয়ে যায় এবং ঈমানের দাবী পালন করছে বলে মনে করে। সর্বশেষে জান্নাত তাদের জন্য অপেক্ষমাণ। কিন্তু এসব ব্যক্তিরা ভুলে যায় যে, তারা শত শত নয় বরং হাজার হাজার গুনাহ ও পাপের মধ্যে সকাল-সন্ধ্যা নিমজ্জিত।
যে সব গুনাহ তারা করে তাহলো পরচর্চা, পরনিন্দা, অপবাদ, কু-দৃষ্টি, হারাম গান বাদ্য শ্রবণ, হারাম বস্তু পানাহার, দাড়ি শেভ করা, পায়ের গীরার নীচে কাপড় ঝুলিয়ে দেয়া ইত্যাদি অনেক পাপ ও অন্যায় কাজ যা বান্দা তুচ্ছ জ্ঞানে করতে থাকে। এসব ব্যাপারে সে কোন গুরুত্বই দেয় না, বরং মনে করে এসব তার জন্য কোন ক্ষতিকর নয়। অথচ মহানবী (সঃ) এসব ব্যাপারে সতর্ক করে বলেছেন -
” إياكم ومحقرات الذنوب فإنهن يجتمعن علي الرجل حتي يهلكنه”
অর্থঃ – ” ছোট ছোট গুনাহের ব্যাপারে তোমরা সতর্ক হও-কারন এগুলি একত্রিত হয়ে এমন অবস্থায় পৌছায় যে পরিশেষে তা তাকে ধ্বংস করে দেয়।” (আহমদ, আলবানী এই হাদিসকে ছহীহ বলেছেন)
মোট কথা প্রকৃত মুসলমান ঐ ব্যক্তি হতে পারেনা যে একটা আদেশ মান্য করে ও অপরটির বিরধীতা করে।
কেননা সেতো একথা জানে যে, ইসলাম এমন একটা পরিপূর্ণ দ্বীন যার কোন অংশ বিচ্ছিন্ন করা যায় না। তার কিছু নির্দেশকে আঁকড়ে ধরা এবং অন্যগুলি ত্যাগ করা এটাই আল্লাহর নিরদেশের সাথে উপহাস ও ঠাট্টা ছাড়া অন্য কিছু নয়। এতে সে কখনও তুষ্ট থাকতে পারে না। কারন, সে জানে আল্লাহ তায়ালা এটা আদৌ পছন্দ করেন না। আল্লাহ তায়ালা এমন ব্যক্তির নিন্দা করেছেন এবং তাকে কঠোর শাস্তির হুমকি দেয়েছেন।
আল্লাহ তায়ালা বলেন,
"তোমরা কি কিতাবের কিছু অংশের উপরে ঈমান আনবে আর কিছু অংশকে অস্বীকার করবে? তোমাদের মধ্যে এমনটি যারা করবে পার্থিব জীবনে অপমান ছাড়া অন্য কোন প্রতিদান তার হতে পারে না। আর কিয়ামতের দিন তাকে কঠিনতম শাস্তির দিকে নিয়ে যাওয়া হবে। আল্লাহ তোমাদের কর্মকাণ্ডের ব্যাপারে গাফিল নন।” (সূরা বাকারা, আয়াত-৮৫)
প্রকৃত মুসলমানের প্রতিটি মুহূর্ত ইবাদত হিসেবে গণ্য। তার কাছে দ্বীন শুধুমাত্র কতগুলি আনুষ্ঠানিক ইবাদতের নাম নয় যা সে পালন করবে। অতঃপর অন্যসব ক্ষেত্রে দ্বীন ও ইবাদত বহির্ভূত মনগড়া জীবন যাপন করবে, হারাম ভক্ষন করবে ও পান করবে, হারাম আচার অনুষ্ঠান দেখবে ও শ্রবন করবে, অবৈধ কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাবে এবং মিথ্যা কথা বলবে এমনটি যারা করবে তারা আদৌ ইসলামের হাকীকত উপলব্ধি করতে সক্ষম হয়নি।
আপনারা আপনাদের ইসলামের ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় করুন। ঘৃণ্য কথা বার্তা, কুৎসিত কাজ কর্মের দ্বারা ইসলামের সৌন্দর্য, মাধুর্য চাকচিক্য বিনষ্ট করবেন না, এ ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় করুন। আপনাদের ভাল কথা, পরিচ্ছন্ন অন্তর, কলুষমুক্ত হৃদয় ও সুন্দর কাজের মাধ্যমে ইসলামের সঠিক প্রমাণ পেশ করুন। আল্লাহ আমাদের সকলকে তার পছন্দনীয় ও সন্তুষ্টির পথে চলার তৌফিক দিন। তিনিই সব ভাল জানেন।
সালাত ও সালাম মহানবী (সঃ) ও তার পরিবার ও সাহাবীদের প্রতি।