সবারজন্য ডটকম

রবিবার, 27 সেপ্টে 2020
Main » 2012 » সেপ্টেম্বর » 2 » বাংলাদেশের রাজনীতিতে আঞ্চলিক উত্তাপ
11.53.21 AM
বাংলাদেশের রাজনীতিতে আঞ্চলিক উত্তাপ
॥ ফরহাদ মজহার ॥
অনেকে দাবি করছেন, বাংলাদেশের রাজনীতি সংঘাতের দিকে যাচ্ছে আবার। এই দাবির পেছনে তারা বাংলাদেশের আভ্যন্তরীণ রাজনীতিকেই দায়ী করেন। বাংলাদেশের রাজনীতিতে সংঘাত নতুন কিছু নয়। ফলে শেখ হাসিনার সরকারের মেয়াদ শেষ হবার তারিখ যতোই ঘনিয়ে আসবে ততোই সংঘাতের সম্ভাবনা বাড়বে। কিন্তু এই সংঘাত বাংলাদেশের রাষ্ট্র ও রাজনীতির জন্য অতিশয় বিপজ্জনক হয়ে ওঠার সম্ভাবনা খুব কমই ছিল। কিন্তু ভারতের আভ্যন্তরীণ রাজনীতির কারণে পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যাচ্ছে এই কথাটি বলবার জন্যই এই লেখাটি লিখছি। বাংলাদেশের আভ্যন্তরীণ রাজনীতির ইস্যু নিয়ে লিখবার আগে আঞ্চলিক পরিপ্রেতি সম্পর্কে এই ধারণাটুকু দিয়ে শুরু করতে চাইছি।

বাংলাদেশে আগামি নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা বাড়তে পারে, বাংলাদেশে এর আগের প্রতিটি নির্বাচনের সময় মারদাঙ্গা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এবারও হতে পারে। এতে অবাক হবার কোন কারণ ঘটবে না। কিন্তু এর পরিণতি বাংলাদেশের জন্য ঠিক কী পরিবর্তন ডেকে আনবে, সেটা আমরা নিশ্চিত করে বলতে না পারলেও রাষ্ট্র ও রাজনীতি নিয়ে সমাজে যে সকল চিন্তার আধিপত্য রয়েছে তার দ্বারা খানিক আন্দাজ করতে পারি। সেই চিন্তা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আবর্তিত। অর্থাৎ ব্যবস্থা যেমন আছে তেমনই থাকবে, মৌলিক কোন সংস্কার বা পরিবর্তনের সম্ভাবনা খুবই কম। এখনো প্রধান রাজনৈতিক উৎকণ্ঠা আসলে কিভাবে বেগম জিয়া ও শেখ হাসিনার মধ্যে একটা সমঝোতা ঘটিয়ে নির্বাচন সম্পন্ন করা যায়। এর বেশি কছু নয়। সংঘাত এড়ানোর নাম করে বিদ্যমান ব্যবস্থা টিকিয়ে রাখার পুরানা প্রক্রিয়াটাই আমরা কমবেশি আবার আবর্তিত হতে দেখব। এই ভাবে ভাবা ভুল ছিল না।
তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে কিছু আইনি তর্ক-বিতর্ক আছে। অধিকাংশ েেত্র এই তর্ক-বিতর্কগুলো দলবাজিতার অধিক কিছু নয়। রাজনীতি, মতা, আইন বা রাষ্ট্র নিয়ে নতুন ভাবে ভাববার েেত্র এইসব তর্ক-বিতর্ক কোন অবদান রাখে না। আপোষ-ফর্মুলার কথা ভাবতে গিয়ে আওয়ামী লিগের তরফ থেকে ‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকার’ নামক ধারণা নিয়ে নাড়াচাড়া দেখছি। অর্থাৎ তত্ত্বাবধায়ক সরকার-জাতীয় আরেকটি জোড়াতালির ফর্মুলা শোনা যাচ্ছে। কিন্তু এর কোন গ্রহণযোগ্যতা নাই। অন্য দিকে বিএনপি ও তার সঙ্গে জোটবদ্ধ দলগুলোর এমন কোন শক্তি নাই যে আন্দোলন করে শেখ হাসিনাকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার-ব্যবস্থায় রাজি করাতে পারে। বেগম খালেদা জিয়া তত্ত্বাবধায়ক সরকার-ব্যবস্থা পুনর্বহাল চান। এই দাবি ছাড়া তিনি এমন কোন দাবি করেন নি যার পেছনে জনমত পরিগঠিত হয়ে উঠতে পারে। তা ছাড়া ইলিয়াস আলীর গুম হয়ে যাওয়াকে কেন্দ্র করে যে-আন্দোলন গড়ে উঠছিল এবং যার সমর্থনে জনগণ রাজপথে নেমে আসার প্রস্তুতি নিচ্ছিল, বিএনপি হঠাৎ সেখানে ছেদ দিয়ে আত্মঘাতী পিছুটান প্রদর্শন করেছে। তার কারণে জনগণের সঙ্গে বিএনপির বিশাল দূরত্ব তৈরি হয়েছে। আওয়ামী লিগ ফাঁকির জায়গাগুলো পুরা মাত্রায় কাজে লাগাবে। লাগাচ্ছে। প্রতিপরে দুর্বলতার সুযোগ পুরা মাত্রায় নেবেন শেখ হাসিনা। তার দুঃশাসন ও সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও শত্রুকে নিশ্চিহ্ন করবার যে জিদ তার স্বভাবের অন্তর্গত, সেখানে কোন কমতি হবে বলে মনে হয় না।
মতায় আসার পর থেকেই শেখ হাসিনার সরকারের প্রধান কৌশল হচ্ছেÑ বেগম খালেদা জিয়া ও তার ছেলেদের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া। গত তত্ত্বাবধায়ক ও শেখ হাসিনার আমলে পঁচিশটি মামলা হয়েছে। মতার মেয়াদ থাকতে থাকতেই দ্রুত সেই মামলায় বিচার এবং বেগম খালেদা জিয়া ও তার পরিবারের সদস্যদের দোষী সাব্যস্ত করে আগামি নির্বাচনের জন্য অযোগ্য ঘোষণা করা শেখ হাসিনার গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক কৌশল। এই পদপে শেখ হাসিনা ইতোমধ্যেই নিতে শুরু করেছেন। এতে তিনি বিফল হবেন তার কোন চিহ্ন দেখা যাচ্ছে না।
শেখ হাসিনার দ্বিতীয় পদপে হছেÑ বিএনপি যদি আগামি নির্বাচন বয়কট করে তাহলে জাতীয় পার্টিকে নিয়ে নির্বাচন করা। এই েেত্র প্রধান বিরোধী দল হিশাবে জাতীয় পার্টির আবির্ভাব ঘটার সম্ভাবনাকে উড়িয়ে দেওয়া যায় না। বেগম খালেদা জিয়া যদি ভেবে থাকেন তিনি নির্বাচনে না গেলে আন্তর্জাতিক মহলের কাছে আগামি নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হবে না, তবে তিনি ভুল করবেন। কিন্তু তিনি ভুল করতে না চাইলেও নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ তার জন্য ক্রমশ সীমিত হয়ে পড়বে ও পড়ছে। সেটা শুধু বাংলাদেশের আভ্যন্তরীণ রাজনীতির জন্য নয়, ভারতের আভ্যন্তরীণ রাজনীতির জন্যও বটে। এই দিকটিই আমরা এখানে বোঝার চেষ্টা করব।
ভারতীয় পত্রপত্রিকায় ভারতীয় গোয়েন্দাদের বরাত দিয়ে বলা হছেÑ বাংলাদেশে শেখ হাসিনার জনপ্রিয়তা হ্রাস পেয়েছে। এটা খবরের গৌণ দিক। মূল প্রচার হচ্ছে বেগম খালেদা জিয়া মতায় এলে বাংলাদেশে আবার ইসলামি সন্ত্রাস মাথাচাড়া দিয়ে উঠবে, পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থা তৎপর হয়ে উঠবে, বাংলাদেশ থেকে ভারতের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী তৎপরতা বৃদ্ধি পাবে, ইত্যাদি। আগস্টের ২৯ তারিখে টাইমস অব ইন্ডিয়া-য় যে প্রতিবেদন ছাপা হয়েছে তার সারকথা হচ্ছেÑ আইএসআই খালেদা জিয়াকে সমর্থন করে এবং অতীতেও করেছে; আগামি দিনে তার আবার মতায় আসা ভারতের নিরাপত্তার জন্য বিপজ্জনক। বিশেষত আসামে যে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা চলছে তার কারণে সেখানে একটা নাজুক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সেখানে মুসলমানরা খালেদা জিয়ার সরকারের কাছ থেকে সমর্থন পেতে পারে। তা ছাড়া ভারতে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি যে হারে ‘অনুপ্রবেশ’ করেছে, তাদেরকেও ভারতে বিভিন্ন তৎপরতায় বাংলাদেশ উৎসাহিত করতে পারে। এই পরিপ্রেেিত রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালিসিস উইং-সহ ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার কাজ হচ্ছেÑ শেখ হাসিনার জনপ্রিয়তায় ধস ঠেকানোর চেষ্টা করা এবং যে ভাবেই হোক বেগম খালেদা জিয়ার আবার মতাসীন হওয়া ঠেকানো। এটা হোল ভারতীয় গোয়েন্দাদের প্রচারের বাইরের দিক। কিন্তু প্রচারের আসল মর্মার্থ এটা নয়।
আসলে বাংলাদেশে পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থা তৎপর থাকতেই পারে, শুধু পাকিস্তান কেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এমনকি মিয়ানমারের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোও বাংলাদেশে কাজ করছে। সন্দেহ করার কারণ নাই। কিন্তু ভারতীয় পত্রপত্রিকায় তাদের গোয়েন্দা সংস্থার বরাতে যে খবরগুলো প্রচার করছে তার উদ্দেশ্য হচ্ছেÑ বাংলাদেশে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার অন্তর্ঘাতমূলক তৎপরতার পে যুক্তি হাজির করা। বাংলাদেশে আইএসআই-র ভূমিকা উদম করে দিয়ে এটাই বলা যে, ভারতীয় স্বার্থ রা করতে হলে বাংলাদেশে ভারতীয় গোয়েন্দাদের তৎপরতা বৃদ্ধি করতে হবে। শেখ হাসিনার সরকারকে যেভাবেই হোক রা করতে হবে।
অন্য দিকে আবার ভারতে আগামি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে, নগ্ন সাম্প্রদায়িকতা শুধু মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে নি, ভয়াবহ দাঙ্গায় রূপ নিচ্ছে। ভারতের নতুন শত্রু হচ্ছেÑ ‘অনুপ্রবেশকারী বাংলাদেশি’। ভারতের ও আঞ্চলিক রাজনীতিতে ‘অনুপ্রবেশকারী বাংলাদেশি’ নতুন উপাদান শুধু নয়, এক নির্ণায়ক উপাদান হয়ে উঠেছে। এই বিষয়ে এখন বিস্তৃত আলোচনা না করে ভারতের আউটলুক পত্রিকার অনলাইনের সাম্প্রতিক সংখ্যাটি পাঠকদের পড়তে অনুরোধ করব। এর প্রচ্ছদ হচ্ছে, ‘নতুন দুষমন’। কারা এই নতুন দুষমন? বাংলাদেশ থেকে আসা অবৈধ দেশান্তরী খেটেখাওয়া মানুষ। ভারতের আগামি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ‘বাংলাদেশি মুসলমান’ সেখানে দুষমণ হয়ে উঠেছে। কিভাবে বাংলাদেশ ভারতের জাতীয় রাজনীতির নির্ণায়ক হয়ে উঠছে, সেই দিকে নজর না দিলে আঞ্চলিক রাজনীতির গতি-প্রকৃতি আমরা বুঝব না। বাংলাদেশের আগামি দিনের রাজনীতিও এর দ্বারা প্রভাবিত হবে। আসাম প্রসঙ্গে ‘পুব থেকে বিদেশি দুষমন’ শিরোনামে লেখাটি পড়লে ভারতীয় গোয়েন্দাদের উৎকণ্ঠা কিছুটা আমরা ধরতে পারব। বাংলাদেশ, বাংলাদেশের সন্নিহিত ভারতের সাত রাজ্যসহ এই অঞ্চলের আগামি দিনের রাজনীতি কী রূপ নিতে যাচ্ছে তার আগাম চিহ্ন ফুটে উঠছে দ্রুত। বাংলাদেশের আগামি দিনের রাজনীতি বাংলাদেশের আভ্যন্তরীণ কারণে যতোটা নয়, তার চেয়ে অনেক বেশি আঞ্চলিক কারণে সংঘাতমুখী হবে, এটা অনায়াসেই অনুমান করা যায়।
শেখ হাসিনা মুখে দাবি করছেনÑ আদালত তত্ত্বাবধায়ক সরকার-ব্যবস্থা সম্পর্কে রায় দিয়েছে বলেই তিনি তত্ত্বাবধায়ক-ব্যবস্থার অধীনে নয়, দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন করবেন। তার এই দাবি ঠিক নয়। মতা ছাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই রাষ্ট্রের বল প্রয়োগকারী সংস্থা, বিচার বিভাগ ও নির্বাহী বিভাগের ওপর থেকে কর্তৃত্ব চলে যাওয়া শেখ হাসিনার জন্য বিপজ্জনক। মতায় আসার পর থেকে তার দুঃশাসন ও দুর্নীতির মাত্রা এতো চরমে পৌঁছেছে যে এর সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া সামাল দেওয়া তার জন্য কঠিন। শেখ হাসিনা এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে নারাজ বলে তিনি তত্ত্বাবধায়ক সরকার-ব্যবস্থার অধীনে নির্বাচন চান না। বর্তমান সংসদ ভেঙে না দিয়ে যেকোন মূল্যে তিনি নির্বাচন করতে চাইবেন। ভারতীয় পত্রপত্রিকার খবর দেখে মনে হয়Ñ এই েেত্র তিনি বাইরের সহায়তা পাবেন। কিছু কিছু দৈনিক পত্রিকায় সংসদ না ভেঙে দিয়ে নির্বাচন করা নিয়ে যে সাংবিধানিক তর্ক করছে, রাজনৈতিক বাস্তবতা বিচার করলে সেই সব তর্ক পানসে ও অর্থহীন মনে হয়। কিন্তু সেই সব তর্কেও আমরা প্রবেশ করব। তা ছাড়া অন্যান্য তর্কেও আমরা আগামি কিস্তিগুলোতে যোগ দেব। যেমন বিচার বিভাগ বনাম জাতীয় সংসদের মতা ও এখতিয়ার নিয়ে তর্ক।
তবে যেসব তর্ক বাংলাদেশে চলছে সেসব শুধু নির্বাচনের দিকে নজর রেখেই। মোটামুটি বলা যায়, বড় কোন পরিবর্তন ঘটবার মতো পরিস্থিতি বাংলাদেশের সমাজে এখনো ঘটে নি। এর দ্বারা সমাজের চিন্তার মাত্রা আমরা ধরতে পারি। অর্থাৎ সমাজের মতাবান শ্রেণীগুলোর চিন্তার দৌড় সম্পর্কে আন্দাজ করতে পারি আমরা। দেখা যাচ্ছে যে সুশীলসমাজও রাজনৈতিক প্রশ্নকে আইনি তর্কে পরিণত করতে বিশেষ ভাবে আগ্রহী। কেন তারা এটা করে সেই দিকটা আমাদের বোঝা দরকার। এর মধ্য দিয়ে সুশীলসমাজের রাজনীতিও আমরা বুঝতে পারব, আশা করি। এই দিকগুলো আমরা আগামি কয়েক কিস্তিতে হাজির করব।
কেউ কেউ আরেকটি এক-এগারো-জাতীয় ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশংকাও করছেন। এই আশংকাটা যে-ভাষায় বলা হয় তা বেশ আমোদ উদ্রেক করে। ‘তৃতীয় শক্তি’ নামক একটি ধারণা বাংলাদেশে চালু হয়েছে। তো কথাটা বলা হয় এই ভাবে যে বাংলাদেশে কি কোন তৃতীয় শক্তির মতায় আসার সম্ভাবনা আছে? রাজনীতিকে যখন রহস্যে মোড়া গোপন ষড়যন্ত্র ভাবা হয়, তখন এই ধরণের ভাষা তৈরী হয়। বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলো খেয়োখেয়ি করছে, এই সুযোগে রাজনীতির দুই প্রধান প্রতিপরে বাইরে কি অন্য কেউ মতা দখল করে নিতে পারে? এই আশংকার পেছনে অলস কল্পনার আতিশয্যই বেশি, বাস্তব বিচার নয়। কিন্তু আগামি দিনে আঞ্চলিক রাজনৈতিক বাস্তবতার কারণে বাংলাদেশ সংঘাত-সংকুল রাজনীতির মধ্যে পতিত হতে পারে; কি ভাবে আমরা তা এড়াতে পারি; কিম্বা শাসক শ্রেণীর নিজেদের সংঘাতকে কি ভাবে গণবিরোধী শাসক শ্রেণীর বিরুদ্ধে বাংলাদেশের জনগণের গণতান্ত্রিক লড়াইয়ে রূপান্তর ঘটাতে পারিÑ সেটাই হবে জনগণের দিক থেকে আলোচনার বিষয়।
Views: 592 | Added by: mim | Rating: 0.0/0
Total comments: 0
Only registered users can add comments.
[ Registration | Login ]